No Widgets found in the Sidebar

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। আর স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মধ্যে দিয়ে বেনিফিশিয়ারি হয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। শনিবার দুপুরে সুপ্রীমকোর্টের শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

জাতির পিতার ৪৭তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে পিরোজপুর জেলা সমিতি, ঢাকা। পিরোজপুর জেলা সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম শামসুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক  ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু। বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজী।

আমির হোসেন আমু বলেন, আমাদের দেশে যারা বামপন্থী আছেন, তাদের কথা ও রাজনীতি বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে এক হওয়ার কথা নয়। কিন্তু লক্ষ্য করা যায়, বামপন্থী হিসেবে পরিচিতরা যে কথাগুলো বলছেন, তাদের কথার অর্থ, তাদের কথার ইঙ্গিত, তাদের যে মূল রাজনীতি, সেই মূল রাজনীতির বিরুদ্ধে যায়। সেটা আমাদের বিরুদ্ধে নয়, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নয়।

এই জিনিসটা তারা বোঝেন কি বোঝেন না, এটা আমাদের বোধগম্য নয়। শেখ হাসিনা কোন দিন রাজনৈতিকভাবে কারও সঙ্গে আপোস করেননি। তিনি তার রাজনীতি থেকে লক্ষ্যচ্যুত হননি। অন্যভাবে আপোস হতে পারে। কৌশলীভাবে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। রাজনৈতিক বা আদর্শিকভাবে কারও সঙ্গে আমরা আপোস করিনি।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য বলেন, ১৫ আগস্টের খুনীদের কূটনৈতিক মিশনে চাকরি দেয়া, পরে রাজনীতিতে আনা, ফ্রিডম পার্টি গঠন করা, তাদের সংসদ সদস্য করা, বিরোধী দলে নেয়ার কাজ করেছেন জিয়াউর রহমান। একইভাবে করেছেন এরশাদও। এই দেশে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তিকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন জিয়া। তারপরও বাস্তবতার কারণেই বিভিন্ন সময় আমাদেরও বিভিন্ন আন্দোলনে সহায়ক শক্তি হিসেবে তারা এসেছে, আমরাও ব্যবহার করেছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, শেখ হাসিনা তার রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। ১৯ বার শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে। মহান আল্লাহ তাকে রক্ষা করেছেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। সেটা কমিশন আকারেই হোক অথবা ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ীই হোক। বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত সবার স্বরূপ উন্মোচন করা না হলে নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাসের কাঠগড়ায় অপরাধী  হয়ে থাকতে হবে। ইতিহাসের এ অধ্যায় বিস্মৃত হয়ে জোড়াতালি দিয়ে চললে রাজনীতি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার খণ্ডিত বিচার  হয়েছে উল্লেখ করে করে শ ম রেজাউল করিম এ সময় আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়য়ন্ত্রে জাড়িতদের নাম মামলার চার্জশীটে আসেনি। বঙ্গবন্ধুর নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ব্যর্থ ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বঙ্গবন্ধু হত্যার সুবিধাভোগীদেরও বিচার করা হয়নি। ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের প্রেক্ষাপটে যারা সঠিক দায়িত্ব পালন করেননি, তারা এখনও মুখোশ পরে বিচরণ করছেন।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ ধ্বংস করা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা পরিকল্পনার অন্যতম কারণ ছিল একাত্তর সালের পরাজয়ের প্রতিশোধ নেয়া। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার অন্যতম কারণ ছিল বাংলাদেশকে একটি বিপন্ন জনপদ হিসেবে রাখা, যাতে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। যার চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল একাত্তরের পরাজিতদের ক্ষমতায় নিয়ে আসা।

বঙ্গবন্ধু হত্যার ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র তুলে ধরে মন্ত্রী এ সময় জানান, জিয়াউর রহমান ‘গো এ্যাহেড বলে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ককে হত্যার সব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। তার নেতৃত্বে বিদেশী মিশনে বঙ্গবন্ধুর খুনীদের চাকরি দেয়া হয়েছিল, খুনীদের সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে এরশাদ খুনীদের রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। খালেদা জিয়া তাদের সংসদে নিয়ে এসেছেন। এভাবে জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনীদের লালন করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *