হিজাব পরায় চাকরি হারালেন শিক্ষিকা

হিজাব পরার অপরাধে কানাডায় চাকরি হারালেন মুসলিম শিক্ষিকা। ফাতেমা আনোয়ারী নামে ওই শিক্ষিকা কুইবেকের চেলসি এলেমেন্টারি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষক ছিলেন। যোগদানের এক মাসের মাথায় তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। এ খবর দিয়েছে ডেইলি সাবাহ।

কুইবেকের প্রাদেশিক আইনের ওপর ভিত্তি করে আনোয়ারীর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

ওই আইনে বলা আছে, অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা, নার্স, শিক্ষক, পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের ধর্মীয় প্রতীক সম্বলিত পোশাক পরতে পারবেন না। এসবের মধ্যে রয়েছে— পাগড়ি, হিজাব, ক্রস ও টুপি।

তবে এই আইনটিকে বিতর্কিত বলে দাবি করেছেন প্রদেশটির অনেক মানুষ। এ আইনরে বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে আদালতে। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা জানতে অপেক্ষা করতে হতে পারে কয়েক বছর।

অভিযোগকারীরা বলছেন, মুসলিম নারীদের অগ্রযাত্রা রুখতেই এ আইন করা হয়েছে। ধর্ম বা চাকরি যে কোন একটা বেছে নিতেই চাপ প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।

অল্প কিছুদিন আগেই আনোয়ারীকে ওই স্কুলে স্থায়ীভাবে শিক্ষকতা করার অনুরোধ করেছিলেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু যোগদানের এক মাসের মধ্যেই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। স্কুলের অধ্যক্ষ বলেন, প্রচলিত আইনে হিজাব পরে স্কুলে চাকরি না করার বিধান রয়েছে। কিন্তু আনোয়ারী সেটি না মানায় তাকে তার পদ তেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তে মুষড়ে পড়েছেন আনোয়ারী। তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সত্যি কথা বলতে এটি মেনে নেয়া খুবই কষ্টকর। সিদ্ধান্ত জানানোর পর আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম।

এদিকে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস (এনসিসিএম) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে টুইন টাওয়ারে হামলার পর থেকে কানাডায় মুসলমানরা নানা বৈষম্যের স্বীকার হচ্ছেন। এরপর থেকে মুসলমানদের ওপর হামলার ঘটনাও বেড়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।