যাত্রীবাহী লঞ্চে ভয়াবহ আগুন ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামক যাত্রীবাহী লঞ্চের ইঞ্জিন থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া গেছে। শতাধিকের বেশি যাত্রী আহত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ ৭২ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) দিনগত রাত ৩টার দিকে সুগন্ধা নদীর গাবখান ধানসিঁড়ি এলাকায় ঢাকা থেকে বরগুনাগামী লঞ্চটিতে আগুন লাগে। ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে মৃতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

লঞ্চের কয়েকজন যাত্রীরা গণমাধ্যকে জানান, লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনা ফিরছিলেন। ঝালকাঠি লঞ্চ টার্মিনালের ঠিক আগে গাবখান সেতুর কিছু আগে লঞ্চের ইঞ্চিনরুমে আগুন লেগে যায়।

এরপর সেই আগুন পর্যায়ক্রমে ছড়িয়ে পড়ে পুরো লঞ্চে। এসময় যাত্রীরা অনেকেই নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতরে তীরে উঠতে পেরেছেন। অনেকে হয়তো পারেননি।

উদ্ধার হওয়া যাত্রীরা গণমাধ্যমকে জানান, রাত তিনটার দিকে লঞ্চের ইঞ্জিনরুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে সে আগুন পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ে। জীবন বাঁচাতে অনেক যাত্রী লঞ্চ থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এতে হতাহতের সংখ্যা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লঞ্চটিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক যাত্রী ছিল বলেও জানান উদ্ধার হওয়ারা।

এছাড়া আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেছে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা। তবে, কুয়াশার কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

এদিকে, আহত ৭০ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। রিপোর্ট লেখাকালীন সময়ে এ ঘটনায় কোন নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন