হামাসের নতুন অস্ত্র: আত্মঘাতী সাবমেরিন

ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে হামাস আত্মঘাতী সাবমেরিন ব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। হামাসের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কিছু না বলা হলেও ইসরাইলি বাহিনী তা প্রকাশ করেছে।

তারা বিমান হামলা চালিয়ে হামাসের একটি আত্মঘাতী সাবমেরিন ধ্বংস ও সেটি রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে যে গাড়ি থেকে পরিচালনা করা হচ্ছিল, তাতেও আঘাত হেনে ক্রু অপারেটরদের হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে।

ইসরাইলি বিমান থেকে সোমবার নেয়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ড্রোন সাবমেরিনটিকে গুঁড়িয়ে দেয় এবং উত্তর গাজার টাওয়ার ব্লকের কাছের অগভীর পানিতে বিশাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

আকাশ থেকে নেয়া আরেক ছবিতে দেখা যায়, একটি গাড়িকে শনাক্ত করে তাতে আঘাত হানা হয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ‘জঙ্গিরা’ এই গাড়ি থেকেই স্বয়ংক্রিয় সাবমেরিনটি পরিচালনা করছিল।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, যে সাবমেরিনটিকে আক্রমণ করা হয়েছে, সেটি গাজা উপকূল থেকে চালু করা হয়েীছল। এটি কয়েক মিটার গভীরে ছিল, টার্গেটের দিকে পরিচালিত করা হয়েছিল। এর টার্গেট হতে পারত ইসরাইলি বিচ বা ইসরাইলি নৌবাহিনীর জাহাজ। সূত্র: ডেইলি মেইল

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছেছে

ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা পর গাজায় প্রথম দফায় মানবিক সহায়তা পৌঁছেছে।

দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ধ্বংসযজ্ঞে পরিণত হওয়া গাজায় ফিরে এসেছেন হাজার হাজার ফিলিস্তিন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিভিন্ন স্থাপণা পুনর্নিমাণ করতে অর্থাৎ সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে কয়েক বছর লেগে যাবে। এদিকে করিডোর তৈরি করে আহত লোকজনকে দ্রুত সরিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

১১ দিন ধরে চলা সংঘাতে আড়াই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই গাজার বাসিন্দা। যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে নিজেদের বিজয় বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। অপরদিকে ইসরায়েলও দাবি করছে তারা বিজয়ী।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজা এবং ফিলিস্তিনের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় নেমে হাজার হাজার মানুষকে উল্লাস করতে দেখা যায়। এ সময় তারা ফিলিস্তিনের পতাকা প্রদর্শন করেন এবং বিজয়সূচক ‘ভি’ চিহ্ন দেখান।

এছাড়া এ সময় গাজার মসজিদ থেকে মাইকে আল্লাহর প্রশংসাসূচক বক্তব্যও শোনা যায়।

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দারাও যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর উল্লাস করেছেন। তবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, আবারও সংঘাত শুরুর ঘটনা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

ইসরায়েল কেরেম শালোম ক্রসিং পুনরায় খুলে দেয়ার পর জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থার মানবিক সহায়তা বহনকারী বেশ কিছু ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে। গাজায় প্রয়োজনীয় ওষুধ, খাবার এবং জ্বালানি পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

গত কয়েকদিনের সংঘাতে গাজায় এক লাখের বেশি মানুষ নিজেদের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। ওই এলাকার নিয়ন্ত্রণ হামাসের হাতে। এদিকে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ বলছে, গাজায় প্রায় ৮ লাখ মানুষের কাছে পানি পৌঁছাচ্ছে না।

ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা বলছেন, সবকিছু পুনর্নিমাণে কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। ওই অঞ্চলে ইতোমধ্যেই করোনা মহামারিও বেশ তাণ্ডব চালাচ্ছে।

গাজায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস। হাজার হাজার মানুষ সংঘাতে আহত হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবা ঝুঁকিতে পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।