ইসরাইলকে দাঁতভাঙা জবাব দিচ্ছে হামাস

    জর্দান নদীর পশ্চিমতীর, গাজা উপত্যকা বা ফিলিস্তিনের অন্য যে কোনো স্থানে সংঘাতের ঘটনায় ইসরায়েলের একক আধিপত্যের যুগ শেষ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাস।

    তারা আরও জানিয়েছে ফিলিস্তিনিরাও এখন তেল আবিবকে দাঁতভাঙা জবাব দিচ্ছে।

    শুক্রবার (১৪ মে ) স্থানীয় সময় বিকেলে হামাসের মুখপাত্র ফৌজি বারহুম এক বিবৃতিতে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে যে ঐক্য ও সংহতির বন্ধন গড়ে উঠেছে এ ঘটনায় তা প্রমাণিত হয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, এবারের সংঘাত শুরু হয়েছে পশ্চিম তীরের বায়তুল মুকাদ্দাসের অধিবাসী ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে গাজা থেকে ইসরায়েলবিরোধী হামলার মাধ্যমে।

    ইসরায়েলকে ধ্বংস করার আন্দোলনে সমগ্র ফিলিস্তিনবাসীর একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত বলেও মনে করেন তিনি।

    আরো পড়ুন-নিজের ‘ভুল বাজিতে ফেঁসে গেছেন’ নেতানিয়াহু

    ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন। গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘাতের ঘটনা এবার ঘটেছে। সংঘাত বন্ধে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই। তবে মুসলিম বিশ্বের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে।

    এ নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়, নিজের ‘ভুল বাজিতে ফেঁসে গেছেন’ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু।

    আল জাজিরার বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, ‌’ভুল বাজি ধরেছেন নেতানিয়াহু। আর এতে তিনি ফেঁসে গেছেন। কারণ ইসরায়েলের প্রধান বিমানবন্দরগুলো হুমকির মুখে রয়েছে। একবার যদি বিমানবন্দরগুলো সত্যি হুমকির মধ্যে পড়ে যায় তাহলে তা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে।’

    ‘নেতানিয়াহু এমন কিছু শুরু করেছিলেন যা তিনি আশা করেননি। পরিস্থিতি যে এভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে তা তিনি কল্পনা করেননি। যেমনটি আমরা দেখেছি, ফিলিস্তিন ও ইহুদিবাদী ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত শহরগুলোতে। পশ্চিম তীর এবং জেরুজালেমে দেখেছি। আমরা অবশ্যই গাজায় এটি দেখছি।’ কথাগুলো বলছিলেন মারওয়ান বিশারা।

    তিনি বলেন, ‘সত্যি বলছি, ২০১৪ সালেও আমি এমন চিত্র দেখিনি। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে দিন দিন জনমত বাড়ছে। যেমন-মিশর, জর্ডান এবং লেবানন এগিয়ে এসেছে।’

    এই বিশ্লেষক মনে করেন এসব কারণে বর্তমানে নেতানিয়াহু সঙ্কটে রয়েছেন। এছাড়া রাজনৈতিকভাবেও তিনি একঘরে হয়েছেন।

    আরো পড়ুন-ইসরাইলি অস্ত্র জাহাজে তুলতে অস্বীকৃতি জানালো ইতালির বন্দরকর্মীরা

    ইসরাইলের অস্ত্র ও বিস্ফোরক জানার পর তা জাহাজে তুলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইতালির লিভোর্নো বন্দরের কর্মীরা।

    কর্মীরা আবিষ্কার করেন যে, অস্ত্রবোঝাই এই জাহাজটি ইসরাইলের আশদদ বন্দরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এরপরই তারা আর এতে অস্ত্র তুলবেন না বলে জানিয়ে দেন।

    এ নিয়ে বন্দরটিতে শ্রমিকদের সংগঠন ইউএসবি বলেছে, লিভোর্নো বন্দর ফিলিস্তিনিদের হত্যাযজ্ঞের সহযোগি হবে না।

    ওই জাহাজটিতে ছিল ব্যাপক পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক। শ্রমিকদের ধারণা, এই অস্ত্র ব্যবহার করে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করা হবে। যদিও জাহাজটি ইতালির অন্য আরেকটি বন্দর নেপলসের দিকে যাত্রা করে। সেখানে শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবেই জাহাজে সব কিছু তুলে দেন।

    তবে শ্রমিকদের সংগঠনগুলো যাতে নিজেদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইসরাইলের অস্ত্র ও বিস্ফোরক লোডে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে এমন চেষ্টা চলছে।

    গত কয়েকদিনে ফিলিস্তিনের গাজায় হামলার প্রতিবাদে আন্দোলন হয়েছে ইতালির বেশ কয়েকটি শহরে। ইসরাইলি হামলায় নিহত হয়েছেন প্রায় ১৮০ ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন সহস্রাধিক।

    আরো খবর পড়ুন এখানে……

    ইসরাইলকে জবাবদিহিতায় আনতে সব ধরনের চেষ্টা করবে আল-জাজিরা

    ইসরাইলে ‘সন্ত্রাসী হামলার’ নিন্দা জানালেন বাইডেন

    ৬ মাস যুদ্ধ চালানোর ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ রয়েছে : হামাস