কোনো বিদেশি সহায়তা ছাড়াই বাজেট প্রস্তুত করল তালেবান

আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের অধীন দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জাতীয় বাজেটের খসড়া প্রস্তুত করেছে। দুই দশকের মধ্যে এই প্রথম তালেবান শাসনে কোনো বাজেট ঘোষণা করতে চলেছে সরকার। খবর এএফপির।

তালেবান সরকারের বাজেটের বিশেষ বৈশিষ্ট্য, কোনো রকম বিদেশি সহায়তা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে এটি।

যুক্তরাষ্ট্র ও এর মিত্রদেশগুলোর সমর্থনপুষ্ট প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি সরকারের পতন ঘটিয়ে গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান।

এ ঘটনায় যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি এক নজিরবিহীন সংকটে পতিত হয়েছে। বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ও দাতা সংস্থা আফগানিস্তানে আর্থিক সহায়তা স্থগিত, ক্ষেত্রবিশেষে বন্ধ করে দেওয়ায় এ সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। পাশাপাশি আটকে দেওয়া হয়েছে বিদেশে থাকা আফগানিস্তানের রিজার্ভও।

এ অবস্থায় মানবিক বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে দিন কাটাচ্ছেন আফগানবাসী। খাবার, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর তীব্র সংকটে রয়েছেন তাঁরা। দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিকে জাতিসংঘ দুর্ভিক্ষের কাছাকাছি অবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। এরই মধ্যে তালেবান সরকার ওই খসড়া বাজেট তৈরি করল।

আফগানিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আহমাদ ওয়ালি হাকমাল ওই খসড়া বাজেট প্রস্তুত হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ করেছেন। তবে এটির আকার সম্পর্কে কিছু জানাননি। আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই বাজেট কার্যকর থাকবে। এএফপিকে তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার আগে সেটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় পাঠানো হবে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে মুখপাত্র আহমাদ ওয়ালি বলেন, ‘আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আয় থেকে বাজেটে অর্থের জোগান দেওয়ার চেষ্টা করছি আমরা। আমাদের বিশ্বাস, আমরা তা পারব।’ তাঁর এ সাক্ষাৎকার টুইটারেও শেয়ার করা হয়েছে।

আফগানিস্তানে আশরাফ গনি সরকারের সময় দেশটির মুদ্রার মূল্যমান ছিল ডলারপ্রতি ৮০ আফগানি। তবে তালেবান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ডলারের বিপরীতে আফগানির মান কমছেই। গত সোমবার এক ডলার সমান ছিল ১৩০ আফগানি। অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটে আজ শুক্রবার এটি এসে দাঁড়ায় ১০০ আফগানিতে।

নতুন সরকারের রাজস্ব বিভাগ বলেছে, তারা গত আড়াই মাসে ২ হাজার ৬০০ কোটি আফগানি রাজস্ব সংগ্রহ করেছে। দরিদ্র লোকজন ও এতিমদের সহায়তায় তহবিল সংগ্রহ করতে একটি নতুন ইসলামি কর-ব্যবস্থা চালু করারও ঘোষণা দিয়েছে তারা।