পেটে কাঁচি রেখে সেলাই: দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে নোটিশ

ফরিদপুরে এক তরুণীর অপারেশনের পর পেটের ভেতর কাঁচি রেখে সেলাইয়ের ঘটনায় ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
পেটে কাঁচি রেখে সেলাই: দুই কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে নোটিশ

বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) আইন ও সালিস কেন্দ্রের (আসক) আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দা নাসরিন ও আইনজীবী মো.শাহীনুজ্জামান রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান।

স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন, ফরিদুপরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, সার্জারি ইউনিটের অধ্যাপক ড. রতন কুমার সাহা, রেজিস্ট্রার ডা. সালেহ মো. সৌরভ এবং সার্জারি বিভাগ ইউনিট ২–এর ডা. সরফউদ্দিন বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

আইনজীবী মো. শাহীনুজ্জামান বলেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং তাদের অবহেলার কারণে ভুক্তভোগীকে ২ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য এ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পদক্ষেপ না নিলে হাইকোর্টে রিট করা হবে।

ভুক্তভোগী ওই তরুণীর নাম মনিরা খাতুন (১৭)। সে গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর থানার ঝুটিগ্রামের খাইরুল মিয়ার মেয়ে।

আরও পড়ুন: ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১: বাঙালির জীবনে এল নতুন প্রভাত

এলাকাবাসী, হাসপাতাল ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বছর পেটে ব্যথার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অপারেশন করান মনিরা। অপারেশনের কয়েক দিন পরেই মনিরাকে নগরকান্দা উপজেলার পৈলানপট্টি গ্রামে বিয়ে দেওয়া হয়।

বিয়ের পরও পেটে ব্যথা ছিল তার। এরপর মনিরা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর বাচ্চা নষ্ট হলে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন স্বামী। এরপরেও বিভিন্ন গ্রাম্য চিকিৎসা করানো হয়।

কিন্তু তার পেট ব্যথা কমেনি। গত দু’দিন আগে পেটে অসহনীয় ব্যথা উঠলে তাকে মুকসুদপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়। ওই ক্লিনিকে এক্সরের মাধ্যমে চিকিৎসকরা দেখতে পান মনিরার পেটের মধ্যে একটি কাঁচি আছে।

এ বিষয়ে মুকসুদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানান, তাদের সন্দেহ হলে তাকে একটি এক্সরে করতে বলেন। পরে এক্সরে রিপোর্ট আসার পর কাঁচি দেখতে পাওয়া যায়। গত বছরের ৩ মার্চ একটি অপারেশনের সময় ভুলে তার পেটের ভেতরে এ কাঁচিটি রেখে দেওয়া হয়েছিল।

চিকিৎসকরা বলেছেন, ওই কাঁচির হাতলে সামান্য মরচে পড়ে গেছে এবং ওই তরুণীর পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে জড়িয়ে গেছে এটি। দ্রুত অপারেশন করে কাঁচিটি বের করা না হলে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে বলে জানান তারা।

অবশেষে ওই ঘটনার ৬৪৩ দিন পর পুনরায় অপারেশন করে তরুণীর পেট থেকে আনুমানিক ছয় ইঞ্চি লম্বা আকৃতির ওই কাঁচি বের করা হয়।