ইসরায়েলে ধর্মীয় উৎসবে পদদলিত হয়ে ৪৪ কট্টর ইহুদির মর্মান্তিক মৃত্যু

অধিকৃত জেরুসালেমের সাফাদ নগরীর মেরোন পাহাড়ে “ঈদুশ শু’লা” তথা অগ্নিশিখা উৎসব পালন করতে গিয়ে ইহুদীদের ধর্মীয় হেরেদি সম্প্রদায়ের অন্তত ৪৪জন নিহত, আহত শতাধিক৷ উদযাপন চলাকালীন উপচেপড়া ভিড়ের ফলে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়৷

সপ্তম হিব্রু চ্যানেল অনুসারে, আজ (৩০ এপ্রিল) শুক্রবার সকালবেলা এ ঘটনা ঘটে৷ মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানায় চ্যানেলটি৷

‘হিব্রু ইনেট ওয়েবসাইট’ জানায় যে, ঘটনাস্থলে মেডিকেল টিম তৎক্ষনাত ছুটে গিয়েছে৷ দলগুলি গুরুতর আহত বাঁচানোর জন্য কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে৷ এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হোম ফ্রন্টের বড়ো সংখ্যক একটা দল আহতদের সরিয়ে নেওয়ার কাজে অংশ নিয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলের পুলিশ বাহিনী জনতার এই উপচে ভীড় সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে৷ যার সংখ্যা প্রায় ১ লাখ হারেদী। হারেদী হলো ইহুদীদের ধর্মীয় একটা সম্প্রদায়৷

প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, জানা যায় যে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কয়েকজন সিঁড়ি থেকে পিছলে যায় এবং পদপিষ্টহয়ে যায়, যার ফলে বাকিদের মাঝে হুলস্থুল সৃষ্টি হয়, এবং একে অপরের সাথে ধাক্কা খেয়ে সিঁড়ি থেকে নিচে পড়ে থাকে ফলে এ বিপর্যয় ঘটে।

টাইমস অব ইসরায়েল জানায়, করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে এক লাখের মতো মানুষ বৃহস্পতিবার রাতেই জড়ো হয়। শুক্রবার আরও মানুষের সেখানে যাওয়ার কথা রয়েছে। গত বছর করোনার কারণে এ উৎসব স্থগিত করা হয়। দেশজুড়ে দ্রুতগতিতে টিকাদান সম্পন্ন করার পর এবার অনুমতি দেওয়া হয়।

সূত্র: আলকুদস

অশেষে মুসলিম ব্রাদারহুডের কয়েক ডজন সদস্যকে মুক্তি দিয়েছে মিশর

মঙ্গলবার ইস্তানবুলের একজন আইনজীবী কায়রো এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্যদের সহ কয়েকজন ব্রাদারহুডের সদস্যকে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন।

“আলেকজান্দ্রিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে যে বিগত কয়েক দিনের মধ্যে ৬২ থেকে ৬২ জন মুসলিম ব্রাদারহুডের জন্য মুক্তির আদেশ জারি করা হয়েছিল,” মানবাধিকারের পরিচালক অ্যাডালা ফাউন্ডেশন মাহমুদ জাবের আনাদোলু এজেন্সিকে বলেছেন।

তিনি বলেছিলেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত মুসলিম ব্রাদারহুড গ্রুপের কিছু সহযোগী সংগঠন হ’ল গ্রুপের অন্যতম আলেম হোসনি জেব্রিলসহ মুক্তি পেয়েছে, অন্যরা সুরক্ষা চেকের অপেক্ষায় রয়েছে যার পরে তারা মুক্তি পেতে পারে।

মুসলিম ব্রাদারহুডের সূত্রমতে গত সপ্তাহে আনাদোলু এজেন্সিকে জানিয়েছে, আলেকজান্দ্রিয়ায় এই গ্রুপের কয়েক ডজন সদস্যকে মুক্তি দেওয়ার প্রাথমিক আদেশ রয়েছে। জাবের বলেছিলেন যে কায়রোয় অন্য বিরোধী ব্যক্তিত্ব মাজদী হুসেন ও সাংবাদিক সুলাফা মাজদী সহ কয়েকজন মুক্তি পেয়েছে।

জাবের উল্লেখ করে তিনি বলে ছিলেন, জেল বিরোধী ব্যক্তির ক্ষেত্রে মামলার সাফল্য সত্ত্বেও এখনও সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সোমবার মিশরের বাইরের মানবাধিকার সংগঠনগুলির কর্তৃপক্ষরা দাবি করেছে যে ১৭ জন মিশরীয়কে কারাডাস গণহত্যা হিসাবে পরিচিত এই মামলায় ২০১৩ সালে ১৩ জন পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত বলে তারা দাবি করেছে।

তবে মিশর ঘোষণা করেছে যে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া নয় জন আসামীকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এদিকে, মিশর সোমবার পূর্ব সিনাই উপদ্বীপ মুক্ত করার উপলক্ষে ২,৬৭৪ জন বন্দিকে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা ঘোষণা করেছে।

উল্লেখ করেছিলেন যে ক্ষমা করা রাজনৈতিক বন্দীদের অন্তর্ভুক্ত করবে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। কর্তৃপক্ষ এখনও এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারে নি তবে বারবার বলেছে যে মিশরের কারাগারে কোনও রাজনৈতিক বন্দি নেই – এমন দাবি দাবীদার অধিকার গোষ্ঠীগুলি করেছে।

উল্যেখ্যা: ২০১৩ সালে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ মুরসির ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে বর্তমান শাসকগোষ্টি মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য ও নেতাদের উপর অত্যাচার চালিয়ে এই দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

মোদির পদত্যাগ চাওয়া হাজারো পোস্ট আটকে দিল ফেসবুক

ভারতজুড়ে কৃষক আন্দোলন এবং কোভিড সঙ্কট নিয়ে প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করায় আগেই বাতিল করা হয়েছিল দেশটির সাংসদ-বিধায়কদের টুইট।

এবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগের দাবি তুলে চালু হওয়া হ্যাশট্যাগ দেওয়া কয়েক হাজার পোস্ট আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফেসবুকের বিরুদ্ধে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নির্দেশে’ তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ। তবে ‘ভুলবশত’ ওই হ্যাশট্যাগ আটকে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

ভারতে করোনা সঙ্কট যে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে এবং তার প্রকোপে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করেছেন সাধারণ মানুষের একটা বড় অংশ।

ব্যর্থতার দায় নিয়ে মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে বলে দাবি তুলে নেটমাধ্যমে #রিজাইনমোদি লিখে পোস্ট করছেন তারা।

বুধবার সকাল থেকে টুইটার এবং ফেসবুকে অন্যতম জনপ্রিয় হ্যাশট্যাগ হিসেবে উঠে এসেছিল সেটি। বৃহস্পতিবার সকালেও টুইটারের হ্যাশট্যাগের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এই #রিজাইনমোদি।

কিন্তু বুধবার বেশ কিছুক্ষণের জন্য ফেসবুক ওই হ্যাশট্যাগ বন্ধ করে দেয়। #রিজাইনমোদি দিয়ে কিছু লেখা পোস্ট করতে গেলেই সেটি ‘ব্লক’ করে দেওয়া হয়েছে বলে বার্তা ভেসে ওঠে। শুধু তাই নয়, ওই হ্যাশট্যাগ দেওয়া সমস্ত পোস্টও সরিয়ে নেওয়া হয়।

বলা হয়, ওই হ্যাশট্যাগ ফেসবুকের নীতির পরিপন্থী।

এর জেরে বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য ওই হ্যাশট্যাগ দেওয়া কোনো লেখা পড়া যাচ্ছিল না। অবশ্য শুধু ভারতের ক্ষেত্রেই ওই হ্যাশট্যাগ আটকে দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ব্রিটেনের মানুষ তা পড়তে পারছিলেন।

এ নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠে আসতে শুরু করলে ফেসবুকের বিরুদ্ধে সরব হন নেটিজেনরা। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘নির্দেশে’ ফেসবুক কর্তৃপক্ষ তাদের বাক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

অনেকে ফেসবুক বয়কট করার ডাকও দেন। তার পরই প্রায় ঘণ্টা তিনেক পর ওই হ্যাশট্যাগ দেওয়া লেখা ফের নজরে আসতে শুরু করে।
এ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে ফেসবুকের মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন বলেন,

ভুলবশত সাময়িক ভাবে ওই হ্যাশট্যাগ আটকে দেওয়া হয়েছিল। তবে তা ভারত সরকারের তরফে নির্দেশ এসেছিল বলে নয়। সেটি আবার চালু করে দিয়েছি আমরা। ’

কিন্তু ফেসবুকের এই দাবিও টিকছে না অনেকের কাছেই। কারণ মহামারি পরিস্থিতিতে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার মোদি সরকারের সমালোচনা করা হয়েছে এমন লেখা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে তুলে নেওয়া হল। এর আগে,

কোভিড সঙ্কট সামাল দেওয়ায় সরকারি ব্যর্থতা নিয়ে মুখ খোলায় পশ্চিমবঙ্গের শ্রমমন্ত্রী মালয় ঘটক, সাংসদ রেবানাথ রেড্ডি, অভিনেতা বিনীতকুমার সিংহ, চিত্র নির্মাতা বিনোদ কাপরি এবং অবিনাশ দাসের হ্যান্ডলের মতো একাধিক বিশিষ্ট মানুষের টুইট তুলে নেওয়া হয়।

এর আগে, গত ২২ এবং ২৩ এপ্রিল ওই টুইটগুলি নিষিদ্ধ করতে টুইটার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। সেই মতো পদক্ষেপ করেন মাইক্রোব্লগিং সাইট কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, গত ২২ এবং ২৩ এপ্রিল ওই টুইটগুলি নিষিদ্ধ করতে টুইটার কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয় কেন্দ্র। সেই মতো পদক্ষেপ করেন মাইক্রোব্লগিং সাইট কর্তৃপক্ষ।

সুত্র আনন্দ বাজার