উত্তর কোরিয়ায় নিষিদ্ধ করা হলো হাসি, নিয়ম ভাঙলে কঠোর শাস্তি!

পৃথিবীতে বিভিন্ন সময় একেক দেশের সরকার প্রধানরা আজব কিছু নিয়ম করেন। তেমনি একটি দেশ উত্তর কোরিয়া।

যেখানে অদ্ভূত কিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার প্রধান নেতা কিম জং উন। জিন্স পরা, স্টাইল করে চুল কাটা কিংবা কান ফোটানো আগে থেকেই দেশটিতে নিষিদ্ধ করেন কিম জং উন।

এবার ১১ দিনের জন্য দেশটিতে হাসি, জন্মদিন কিংবা মৃত্যু দিবস পালন নিষিদ্ধ করেছেন তিনি।

এক্সপ্রেস ডট ইউকে’র প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার প্রাক্তন নেতা কিম জং ইলের দশম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) ছিল কিম জং ইলের দশম মৃত্যুবার্ষিকী।

তাই উত্তর কোরিয়াবাসীর কাছে দিনটি খুবই শোক ও দুঃখের। দিনটিকে বিশেষভাবে সম্মান জানাতে অভিনব পথ বেছে নিয়েছে তারা।

পড়ুন: মাছ-মাংসে অরুচি, ৭০ বছর ধরে ভাত আর প্রসাদ খেয়েই বেঁচে আছে যে কুমির!

কিম জং ইলের দশম মৃত্যুবার্ষিকীতে ১১ দিনের জন্য দেশজুড়ে হাসি, জন্মদিন, মদপান কিংবা মৃত্যু দিবস পালন নিষিদ্ধ করছে কিম প্রশাসন। একই সাথে সব ধরনের বিনোদনমূলক কার্যকলাপ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশ সংবলিত আদেশে বলা হয়েছে, ১১ দিন এসব নিয়ম ভাঙলে দেশটির বাসিন্দাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।

তাবলিগ জামাত ও নিজামুদ্দিন মারকাজকে নিষিদ্ধ করা উচিত: ইন্ডিয়ান হিন্দু কাউন্সিল

ভারতের হিন্দু কাউন্সিল সৌদি আরবের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তাবলিগ জামাত ও মারকাজ নিজামুদ্দিনকে নিষিদ্ধ করা উচিত বলে বিতর্কিত বিবৃতি দিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের হিন্দু কাউন্সিল এ বিবৃতি দিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের তাবলিগের বিরুদ্ধে সরকারের সিদ্ধান্তের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতে মুসলিম ও সংগঠনের ওপর।

বৃহস্পতিবার ভিএইচপি দ্বারা জারি করা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে, ভিএইচপির কার্যকরী সভাপতি অলোক কুমার বলেছেন যে তাবলিগী জামাতের কর্মকাণ্ড বিশ্বের জন্য একটি গুরুতর হুমকি।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ সৌদি সরকারের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছে এবং বলেছে যে ভারতসহ সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবিলম্বে তাবলিগী জামাতের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট,

অফিস এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা উচিত যা মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে। ভিএইচপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অলোক কুমার বলেছেন, এই সংগঠনটি ইতিমধ্যেই রাশিয়া সহ বিশ্বের অনেক দেশে নিষিদ্ধ।

কিছুদিন আগে তাবলিগ জামাতকে ‘সন্ত্রাসবাদের অন্যতম দরজা’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করেছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের ‘ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রী ড. আব্দুল লাতিফ আলশেখ এ বিষয়ে টুইট করেছেন।

টুইট বার্তায় তিনি যেসব মসজিদে জুমার নামাজ হয় সেসব মসজিদকে অস্থায়ীভাবে পরের জুমার খুতবায় তাবলীগ জামাতের বিরুদ্ধে সতর্ক করতে নির্দেশ দিয়েছেন’।

তাবলিগ জামাত সম্পর্কে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, এটি সন্ত্রাসবাদের একটি প্রবেশপথ। এদের বিপদ সম্পর্কে মানুষকে বোঝান। এদের ভুলগুলো তুলে ধরুন। এ ছাড়া শুক্রবার জুমার নামাজে তাবলিগ জামাত নিয়ে মানুষকে সতর্ক করে দিতে মসজিদের ইমামদের নির্দেশ দিয়েছেন।

তাবলিগ জামাতের পাশাপাশি নিষিদ্ধ করা হয়েছে দাওয়া নামে আরেকটি সংগঠনকে। মন্ত্রী টুইটে জানিয়েছেন, মসজিদে ইমামদের তাদের ভাষণে উল্লেখ করা উচিত এরা কীভাবে সমাজের জন্য বিপজ্জনক। ১৯২৬ সালে দাওয়া নামের এ সংগঠনটির গঠিত হয়।

তবলিগ জামাত ও দাওয়া দুটিই সুন্নি মুসলিমদের সংগঠন। অন্যদিকে সৌদি আরবের অধিকাংশ মানুষ আহলে হাদিস মতাদর্শের অনুসারী। দুই পক্ষই ইসলামের অনুশীলন আরও বেশি শুদ্ধ করার পক্ষপাতী হলেও দুই শিবিরের মধ্যে একটি সংঘাত রয়েছে।

সারা বিশ্বে তাদের ৩৫০-৪০০ মিলিয়ন অনুসারী রয়েছে বলে দাবি সংগঠনের। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তাদের লক্ষ্যই হলো ধর্মীয় বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া এবং অত্যন্ত কড়াভাবে রাজনীতি এড়িয়ে চলা।

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে তাবলিগ জামাত বিশ্বের অনেক অংশেই ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে। কারণ ইসলামকে ‘শুদ্ধ’ করার জন্য ভারতে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের অর্থের মূল উৎস ছিল সৌদির দাতব্য সংস্থাগুলো।

আরও কিছু দেশের সরকারও সৌদিকে অনুসরণ করে তাবলিগকে নিষিদ্ধ করতে পারে। তবে মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতে তাবলিগ নিষিদ্ধ করা কঠিন হতে পারে। কারণ এসব দেশে প্রচুর তাবলিগী জনসংখ্যা রয়েছে। সূত্র: হালাল মিডিয়া