মোাদির ঢাকা সফরের বিরোধিতা করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেন্দ্র

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ভারতের বিজেপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের দুই মেরু, ডান এবং বাম উভয় দিক থেকে।

বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং কাশ্মীর-দিল্লিতে মুসলিম গণহত্যা ও বাবরি মসজিদ ধ্বংসের খলনায়ক দাবি করে তারা মোদির ঢাকা সফর বাতিল চায়। এ অবস্থায় মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধিতা বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেন্দ্র (সিবিআইআর)।

শুক্রবার (১৯ মার্চ) বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেন্দ্রের পরিচালক শাহিদুল হাসান খোকন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে সাম্প্রদায়িক অপশক্তিগুলো ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

এই অপশক্তিগুলো কেবল মুক্তিযুদ্ধের মহান চেতনাকেই নস্যাৎ করতে উদ্যত নয়; তারা বাংলাদেশেকে বন্ধুহীন-বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করতেও অতিমাত্রায় সক্রিয়।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কেন্দ্র বলছে, ইতিহাসের এক যুগ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাঙালি জাতি যখন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের অধীর অপেক্ষায়, তখন এই অপচেষ্টাকারীরা পাকিস্তানের পরাজিত সেই শক্তির প্রতিভূ হয়ে দেশের অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দিতে তৎপর।

আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আরও লক্ষ্য করছি, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষকে মহাসমারোহে উদযাপনে সরকারের গৃহীত কর্মসূচি বানচালে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্যে মাঠে নেমেছে।

এই অপচেষ্টাকারীদের পুরোভাগে নেতৃত্ব দিচ্ছে কয়েকটি সংগঠন। এই সংগঠনগুলো বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশকে বিতর্কিত কর্মসূচি পালন করে দেশকে অস্থিতিশীল করতে তৎপর। এখন মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের প্রধান মিত্র চিরবন্ধুপ্রতিম ভারতের সঙ্গে বৈরিতা সৃষ্টির অপচেষ্টায় অতি সক্রিয়।

আমরা গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন সূত্রে অনুসন্ধানে জেনেছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরাজিত শক্তির প্রত্যক্ষ-পরোক্ষে মদতেই এই সংগঠন ও ব্যক্তিগুলো অপচেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে।