বাইডেন প্রশাসনের আলোচনার আগ্রহেও নিস্পৃহ কিম জং উন

    গোপন বিভিন্ন চ্যানেলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন উত্তর কোরিয়ার সাথে আলোচনার আগ্রহের কথা জানালেও দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন এই বিষয়ে কোনো সাড়া দেননি। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে মার্কিন প্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা এই তথ্য জানান।

    ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে আমরা মধ্য-ফেব্রুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ার সরকারের সাথে যোগাযোগের জন্য নিউ ইয়র্কসহ বিভিন্ন চ্যানেলে শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে আমরা কোনো সাড়া পাইনি। প্রায় এক বছর উত্তর কোরিয়ার সাথে কোনো আলোচনা না হলেও যুক্তরাষ্ট্র বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করে।’

    সিএনএনের প্রতিবেদনে পরিচয় প্রকাশ না করা ওই প্রশাসনিক কর্মকর্তা উত্তর কোরিয়ার সাথে যুক্তরাষ্ট্রে যোগাযোগের প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে ওই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। তবে তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসন বর্তমানে উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি কী হবে, তা নিয়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে পর্যালোচনা করছে।

    তিনি বলেন, ‘এই পর্যালোচনায় প্রতিবেশী দেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সীমানায় উত্তর কোরিয়ার হুমকি বাড়তে থাকায় নাগালে থাকা সব সুযোগই বিবেচনা করা হবে।’

    যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর কোরিয়া নীতি পর্যালোচনায় মার্কিন প্রশাসন দেশটির বিষয়ে মার্কিন নীতির সাথে জড়িত সাবেক সরকারী কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে, যাদের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ছিলেন।

    ওই কর্মকর্তা জানান, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মিত্রদেশগুলোর সাথেও এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে।

    ওই প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘সামনের সপ্তাহগুলোতে বিভিন্ন পক্ষের সমন্বয়ে আমরা একটি নিরবিচ্ছিন্ন নীতি প্রণয়ন করতে চাচ্ছি।’

    এর আগে শনিবার উত্তর কোরিয়ার সাথে যোগাযোগের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নিয়ে রয়টার্স প্রথম প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

    সামনের সপ্তাহে বাইডেন প্রশাসন তাদের উত্তর কোরিয়া নীতি ঘোষণা করবে। মার্কিন আইন পরিষদের সদস্য ও মিত্র দেশগুলো উৎসুক হয়ে এই নীতির ঘোষণার অপেক্ষা করেছে।

    সিএনএন তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলেছে, উত্তর কোরিয়া তাদের পরমাণু অস্ত্র লুকিয়ে রাখতে কিছু অবকাঠামো তৈরি করছে বলে মার্কিন স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছে।

    সূত্র : সিএনএন