বিএনপির কমিটির ঘোষণাপত্রে ‘খালেদা জিয়া অমর হোক’

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানা বিএনপির ১০টি ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করেছেন থানা বিএনপির আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম মান্নান ও সদস্য সচিব মো. মোশাররফ হোসেন। তবে কমিটির ঘোষণাপত্রে লেখা রয়েছে ‘খালেদা জিয়া অমর হোক’।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু মৃত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ‘অমর হোক’ কথাটি লেখা হয়ে থাকে। জীবিতদের ক্ষেত্রে এটি লেখা হয় না। আর দলীয় চেয়ারপারসনকে উল্লেখ করে এমন লেখার কারণে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে সোনারগাঁ থানার অধীনে থাকা এসব ইউনিটের কমিটিগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়। ইতোমধ্যে নবগঠিত কমিটির কাগজগুলো গণমাধ্যমের হাতে এসেছে। ২১ সদস্য বিশিষ্ট সনমান্দী ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটির কাগজে ওই লেখা দেখা গেছে। কমিটির সেই কাগজের ঠিক উপরে মাঝ বরাবর ‘খালেদা জিয়া অমর হোক’ লেখা। একই কাগজে ‘জিয়াউর রহমান অমর হোক’ লেখাও রয়েছে। ওই কমিটিতে সফির উদ্দিন মজনুকে আহ্বায়ক ও মোসলেহ উদ্দিনকে সদস্য সচিব করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপিপন্থি একাধিক শিক্ষক বলেন, ‘এই শব্দটি আমরা মৃত্যুর পর ব্যবহার করি, যেন তার কর্ম মানুষের মাঝে অমর হয়ে থাকে। জিয়াউর রহমান একজন কীর্তিমান। তার ক্ষেত্রে অমর শব্দ ব্যবহার করা যায়। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এ শব্দ ব্যবহার মানে তার মৃত্যু হয়েছে বা তিনি গত হয়েছেন এমনটি বুঝায়। এ ধরনের শব্দ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

এদিকে দলীয় কমিটির কাগজে এমন ভুলের প্রতিক্রিয়ায় দলের একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে তারা কেউই নাম প্রকাশ করতে চাননি। তাদের দাবি, দলের নেত্রীকে নিয়ে যারা এমন ভুল করতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।

সোনারগাঁ থানা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম মান্নান একাদশ সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন। এমন একটি লেখা কীভাবে তার নজর এড়িয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ঘটনায় ভুল স্বীকার করে সোনারগাঁও থানা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে কাজ করতে গিয়ে এ ধরনের ভুল হয়েছে। এটা অনিচ্ছাকৃত ভুল। আসলে মানুষ মাত্র ভুল হয়। আমাদেরও তেমনই একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। আগামীতে যেন এ ধরনের ভুল না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবো। ভুলের বিষয়টি জানার পর বেশ কয়েকটি কমিটির কাগজ সংশোধন করে দিয়েছি।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে সোনারগাঁও থানা বিএনপির আহ্বায়ক আজহারুল ইসলাম মান্নানের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।