নিজ প্রতিষ্ঠানেই বৈষম্যের শিকার দুদক কর্মীরা

দুর্নীতি দমন কমিশনে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। চাকরিচ্যুত দুদক কর্মকর্তা উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দীনের অভিযোগ, নিজ প্রতিষ্ঠানেই বৈষম্যের শিকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই বরখাস্ত করা যায় তাদের।

অন্যদিকে ডেপুটেশনে আসা আমলারা দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যান বলেও দাবি তার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করছেন দুদক সচিব। কক্সবাজারে রেলের ভূমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি, রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট দেয়াসহ গোটা চট্টগ্রামে একের পর

এক দুর্নীতি উন্মোচন করেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দীন। গত ৩ বছরে শতাধিক মামলা করে ব্যতিব্যস্ত রাখেন তিনি। সম্প্রতি তাকে অপসারণে প্রতিবাদে মানববন্ধনও করেন সহকর্মীরা।

শরীফের অভিযোগ, গত বছর তিন জেলা প্রশাসকসহ ২৯ শীর্ষ ক্যাডারের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করার পরই তার ওপর চড়াও হয় দুদক আমলাদের একটি চক্র। চট্টগ্রাম থেকে তাকে বদলি করা হয় পটুয়াখালী। একের পর এক দায়ের হয় ৩টি বিভাগীয় মামলা। তার বাড়িতে গিয়ে আসামিরা হুমকি দিয়েছে বলেও দাবি তার।

জানা গেছে, শুধু শরীফ নয়, দুর্নীতির দায় নিয়ে এভাবে চাকরি হারানোর প্রক্রিয়ায় আছেন আরো বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা। এরই মধ্যে বদলি হয়েছে ত্রিশের বেশি কর্মকর্তার।এ প্রসঙ্গে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়বে।

অভিযোগ রয়েছে, অনুসন্ধান-তদন্তের ভার দুদক কর্মকর্তাদের, তবে কাউকে ধরা বা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন ডেপুটেশনে আসা আমলারা। দুর্নীতির অভিযোগেও তাদের চাকুরিচ্যুত করার এখতিয়ার নেই কমিশনের।

অন্যদিকে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়াই অপসারণ করা যায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। তবে দুদকের সচিব মাহবুবুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তারা এসব অভিযোগ মানতে নারাজ।তবে চাকরি হারানোর পর শরীফ বলেছেন, দুদকের সেই আমলাদের হুকুম না মানলেই হয়রানির মুখে পড়তে হয় তদন্তকারীদের।