ক্ষমতা ছেড়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে

বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন,

পাকহানাদার বাহিনীর আক্রমণে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যখন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছিলেন তখন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।

এরপর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তখন বেগম খালেদা জিয়া পালিয়ে না গিয়ে দেশেই ছিলেন।

পরে ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়াকে আটক করে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত কারাগারে রাখেন পাকসেনারা। এজন্য খালেদা জিয়াকে দেশের প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা বলেছি।

সেইদিন যদি তিনি এই কাজটি না করতেন তাহলে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যেতে পারতো। সেই খালেদা জিয়াকে বিনা অপরাধে জেলে আটক রাখা হয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না।

বারবার চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে বললেও সরকার কোনো কর্ণপাত করছে না। আমরা বারবার বলেছি মানবিক কারণে বাধা দিবেন না।

কিন্তু সরকার শুনছেন না। এ ব্যাপারে বারবার আইন দেখায় আইনমন্ত্রী। অথচ তারা নিজেই বেআইনিভাবে ক্ষমতায় রয়েছে। আগের রাতে নির্বাচন করে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে গত ১৪ বছর ধরে জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে।

তারা দেশটাকে একটা আঁস্তাকুড়ের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সব ধ্বংস করে দিয়েছে তারা। টাঙ্গাইলের আব্দুস সালাম পিন্টুকেও মিথ্যা মামলায় কারাগারে রাখা হয়েছে।

আমাদের দলের ৩৫ লাখ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। গতকাল বিকালে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি আয়োজিত জেলা সদর স্কুল মাঠে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার দাবিতে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত ক্ষমতায় আছেন ততক্ষণ নির্বাচন কমিশন গঠন করে লাভ হবে না। সরকার তো নিজেই নির্বাচনী ব্যবস্থাপনাকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ সরকার না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সব নির্বাচনে সরকারদলীয়রা জোর করে ক্ষমতায় যাচ্ছে। অতএব, নির্বাচনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করতে হবে।

এই সরকারকে পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। দেশের যে অবস্থা এখন থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।

এজন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে এই দানবের মোকাবিলা করতে হবে। এই দানব আমাদের বুকের ওপর চেপে বসে আছে। আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ না দিলে এ দায় সরকারকে নিতে হবে। অন্যথায় দুর্বার আন্দোলনের মধ্যে আপনারা পালানোর সুযোগ পাবেন না।

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক এডভোকেট আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসান,

কেন্দ্রীয় বিএনপি’র পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুর রহমান মিলন, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী,

বিএনপি’র শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু। প্রায় ১৫ বছর পর টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেন।